Saturday, 24 December 2016

নির্বাক প্রেমিক দিবু


আজকে বড়দিনআজকের এই দিনে ঘটে যাওয়া ২০০৯ সালের ঘটনা বলছি।২৫-ই ডিসেম্বর ২০০৯ সাল সকাল নয়টা কি দশটা বাজে তখন।আমার খুব ভালো বান্দবী আমার দিকে এগিয়ে আসছে নাম তার অর্পা।আজ অর্পাকে খুব সুন্দর লাগছিলোপড়নে নীল শাড়ি, কপালে লাল টিপ, হাতে সেই অদ্ভুত ধরনের চুড়ি।এক কথায় খুব সুন্দরএসেই আমাকে বলছিলো...
-মেরি ক্রিসমাসডে দিবু।জানিস তোকেই প্রথম বললাম।
-মেরি ক্রিসমাসডে তোকেও।
আচ্ছা আমার পরিচয় টা আগে দিয়ে নি-আসলে নিজের ব্যাপারে বলতে আমার কিছুই নেই এখন
আমি দিবুজঙ্গলে মঙ্গলে থাকি!কাপ্তাই চিনেন হুম ঠিক ধরেছেন আমি রাঙ্গামাটি থাকিমোটামুটি  ভালো একটা ডিপার্টমেন্টে ডিপ্লোমা করতেছিআর যে নীল শাড়ি, লাল টিপ,চুড়ি পড়া মেয়েটার কথা বললাম ও আর কেউ নয় এক কথায় বলতে পারেন আমার শুভাকাঙ্খীসেই ছোট থেকেই একই মিশন স্কুলে পড়তাম।সেই এক বিশাল মজা।চলতে-চলতে,খেলতে খেলতে কখন যে অর্পাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম তা নিজেও জানি না।না জানাই স্বাভাবিক,ভালোবাসা তো আর বলে আসে না।অর্পার চুল আর চোখ যে কেউ দেখলে সহজে ভুলতে পরবে না।তাই তো ওর সাথে অনিয়ম করেই বসতাম,থাকতো প্রতিদিন তার চুল এলোমেলো করার কাজ,থাকতো কে কার দিকে বেশি তাকিয়ে থাকতে পারি।চোখে জল এনেই সমাপ্তি ঘটত আমাদের দেখাদেখির।দৈর্ঘ্য পাঁচটি বছর কেটেছে আমাদের বন্ধু হিসাবে ২০০৪-২০০৯ পর্যন্ত।২০০৯ থেকেই  শুরু হয় আমাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায়।তো চলুন কিভাবে শুরু করলাম আমাদের সেই নতুন পথচলা।

কোথায় জানি আটকে ছিলাম,ও হ্যাঁ -মেরি ক্রিসমাসডে বলা শেষ হলোঃ
সকাল বেলা এমনি মজা করতে করতে কেটে গেল।
তো বিকালের দিকে.....

-আচ্ছা অর্পা তুই কি ফ্রী আছিস?
- হ্যাঁ কিন্তু কেন
- তোকে কিছু বলার ছিল রে
- আমারো তো কিছু বলার আছে।আচ্ছা আগে তুই বল।
- ধ্যাত!এখানে না।
- তাহলে?
- ওদিকে চল একটু(হাটতে হাটতে এক পুকুর পারে গিয়ে বসলাম।দিনের বেলা গড়িয়ে তখন রাত গড়িয়ে আসার সময়অবশ্য যে কথা বলতে এসেছি তা বলতে কোন ভয় ছিল না,তবে সারা মুখে লজ্জার লুকোচুরি খেলছিলপুকুরপার তখন কত নির্জন, কত শান্ত ছিল তা বুঝাতে পারবো না আপনাদের।হয়তো কথা শুনার জন্য সম্পূর্ন প্রকৃতি ছিল শান্তআকাশের মেঘগুলো অনেকটা অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছিলো।)
- এবার বল কি বলবি।
- আমি তোকে ভালোবাসি।
(চোঁখ বন্ধ করে বলেছিলাম)
- তোর সাহসতো কম না। (রেগে গিয়ে)
- সরি সরি এমনি বললাম তো।(সাথে সাথেই লজ্জার লুকোচুরি খেলা মুখটা লাল হয়ে গেছিলো আমার)
- ঔ গাধা সরি বললি ক্যান আবারএই কথাটা বলতে এতোদিন লাগে তোর?আশায় ছিলাম কবে ভালোবাসবি।সত্যি আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি
- তাহলে রাগ করলি ক্যান? (আমিও রেগে গিয়ে)
- আগে বল-এই কথা বলতে এত্তদিন লাগলো কেন?
- হায়! হায়! রাত হয়ে এলো তো-চলো চলো
- উওর কই।কাল সকাল সকাল আসবি কিন্তু.হু..লাভ ইউ দিবু।
দিন যায় মাস যায়,কত্ত সকাল-সন্ধ্যা চলে যায়।তবু এই ভালোবাসার পাগলামি আর ফুরায় না।

অনেক অনেক গল্প
মাঝে মাঝে অভিমান
রাগও হতো অল্প
হালকা হালকা আঘাতে
কান্না আসার ভাব
একটু শাসন,আবার হাঁসি।
বন্ধুরা
এমন হলে বুঝে নিও
এটাই সত্যিকারের লাভঅর্পা ছিল আমার প্রান,আমি ওর কাছে ছিলাম অর্পার প্রানের থেকেও মূল্যবান।এটা শুধু আমার ধারনা,অর্পার কি ভাবতো জানি না--একদিন- ভুলে বলেছিলাম আচ্ছা অর্পা আমি যদি মরে যাই!!বলা শেষ হতেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে কান্না,আর কি জানি বকবক করে আমাক বলছেএত্তো বেশি করে কাঁদল যে কাদতে কাদতে বন্যা বয়ে দিআর আমার গেঞ্জিটাতে চোখের পানি, নাকের পানি দিয়ে আরো মাখিয়ে ফেল, অলরেডি তো অর্ধেক মাখিয়েই ফেলেছিলো
- খুব খারাপ।খুব, খুবিই খারাপ হচ্ছে কিন্তু দিবু।(চোখ মুছতে মুছতে)
আমি তাকে দেখে থাকতে পারি নি-সাথে সাথেই কাছেই টেনে নিয়েছিলাম বুকেসত্যিই  আমিও অর্পাকে অনেক ভালোবাসিখুব খুব খুব ভালোবেসে ফেলেছি।৩ বছর পরেও খুব ভলোই যাচ্ছিলো আমাদের দিন গুলি...ছিল না কোন ঝগড়া- না ছিল অভিমান,শুধু একটা ভুলে আজ আমি একা।আজ আমার অর্পা আর আমার কাছে আসে না।কোন গানের সুর আর ভার লাগে না,কেউ আর বুকে এসে কাঁদে না।নির্বাক প্রেমিক দিবু আজ শুধুই একা ভবঘুরে হয়ে কেঁদে কেঁদে করে শুধু অর্পা অর্পা।রাত অনেক হলে আর কিছু ভালো লাগে নাআমি এখনো দাড়িয়ে আছি ছাদে অর্পার অপেক্ষায়ঘর সব জিনিস গুলোতেই কেন জানি শুধু ওরি ছায়া খুজে পাচ্ছি। কেন জানি শুধু ওর মুখটা চোঁখের সামনে ভাসছে।বিছানাতে শুয়েও ভালো লাগছে নাযদিও নিজে থেকে ছাড়িয়ে নিতাম।শুয়ে শুয়ে এপাশ ওপাশ করি আজোকিছুতেই ঘুম আসে না। কোনভাবেই কেটে গেল একটি বছর।আবার শুরু কাল্পনিক অর্পাকে নিয়ে এক নতুন অধ্যায়---
এক ছুটিতে দুঃখ ভরা মন নিয়ে বন্ধুর কলেজে দিনাজপুর গেছিলাম ঘুরতে।প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল সেদিনআমি আর মাসুম।এক দোকানে বসে চা খাচ্ছিলামমিষ্টি মেশানো দুধ চা।এই বন্ধু হচ্ছে আমার আবার এক বান্ধবীর তমুল প্রেমে মেতে থাকা হবু প্রেমিকছোট থেকে একি স্কুলে, একি কোচিং এ, এখন ভিন্ন কলেজে পড়ি।কোচিং-এ এক্সাম শীট কপি করার বিরাট প্রতিভা আছে আমাদেরআমি ওর সব সুখের কথা জানলেও মাসুম জানে না আমার দুঃখের কথা।আজ বলবো নাকি বলবো না এটাই চিন্তা করছিলাম।কিন্তু চিন্তার অবসান ঘটিয়ে সামনে একজনকে দেখলাম।পড়নে লাল রঙের থ্রী-পিছ, এক পায়ে পায়েল পড়া, কেমন অদ্ভুত ধরনের চুড়ি।এ কি দেখছি আমি,চোখ আমার তার চুলে,কখনো বা তার চোখের্নিবাক প্রেমিক আমি।চোখে ভুল দেখছি নাতো।মনে পড়ে গেল পুরোনো সেই দিনের কথা।বৃষ্টি থেমে গেল,আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করলো,লোকের চলাচল বাড়তেই থাকলো।কিন্তু আমার মনের ব্যাকুলতা অর্পার সাথে কাটানো অতীত মন থেকে ছিটকে পড়া পানির ফোটাগুলোর মতো অঝোরে ঝরতে লাগলো।চোখের পাতা না ফেলতেই মাসুম বুঝে উঠে বলে উঠলো--
- ঔ হারামি কি দেখিস?
- না। কিছু না।( (উদাস ভাবে বললা
- আবার মিথ্যা বলিস।
- না দোস্ত ঔ মেয়েটাকে দেখছিলাম
(সাথে সাথে মাসুম পেছন ফিরে ডাকলো মেয়েটাকে)
- আরে এ তো সাথী? ওতো আমার বান্ধবী রেআমা ডিপার্টমেন্টেই পড়ে।
- কি কস ?সত্যি
- হুম।ক্যান এর আগে দেখোস নাই বুঝি।
- না।আচ্ছা আর কি কি জানিস ওর ব্যাপারে।
- টেনশন নি না। আমি সব দেখছি। চল আমার সাথে।
- কোথায়?
- রে চল না
(হারামি করে কি। আমাকে একবারে ও যেখানে বসে কফি খাচ্ছিলো ওখানেই নিয়ে গেল)
- কিরে সাথী কি করিস ?
- কফি খাই। খাবি?
- আগে পরিচয় --এটা আমার দোস্ত ওর নাম দিবু
- হাই আমি সাথী
- হ্যালো আ-আমি দিবু।
- কেমন আছেন?
- এইতো চলছে। আপনি?
- ভালো।
বৃষ্টি শুরু হলোতাই অনেকক্ষন কথা হয়েছিল সেদিন।আস্তে আস্তে ভালো বন্ধুতে রূপ নিল। কেয়ারিং, সেয়ারিং সব কিছুইসাথীর সাথে কথা বলে আমার হারিয়ে যাওয়ার দিনগুলি ফেরে পেতাম।শুধু তাই নয় অর্পার সাথে সাথীর অনেক মিল খুঁজে পেতাম আমি।চুল আর চোখ দেখলেই আমার আর খারাপ লাগতো না।তাই তো সাথীর সাথেই কথা বলে কাটিয়ে দিতাম।সাথী কিছুটা হলেও আমার দুঃখের কারন জানতো।তাই তো কোন দিন খারাপ থাকতে দেয় নি।কয়েকটা বছর চলে গেল এইভাবেই।কিন্তু আর কতদিন।সাথী অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসে।ও একদিন চলে যাবে তখন কি হবে আমার।।ভাবতে ভাবতে চোখে জল চলে আসলো।কিছুদিন আগের কথা..বিকালে একদিন
-আচ্ছা সাথী তোর বিয়ে হওয়ার পরও কি আমাকে কিছুটা ভালো রাখতে পারবি।শুধু কথা বললেই হবে।
-হুম।পারবো
-সত্যি তো !!
-সত্যি-সত্যি।কিন্তু একটা শর্তে
-কি
-আজ বলতে হবে অর্পার তারপর কি হলোঃআজ কিন্তু বলতেই হবে!
-শুনবি তাহলে,ওকে শুন...................
ভালোভাবেই চলছিল আমাদের সম্পর্কটা।বেশি কিছু মনে নাই তবে এথনো মনে আছে সম্পর্কের প্রায় ১ বছর পর
একদিন পাশাপাশি বসে আছি অর্পার সাথে।হঠাৎ অর্পা বললো........


-দিবু একটা কথা বলি?
- হুম বলো।
- আচ্ছা আমি যদি মরে যাই তাহলে তুমি কি করবে?
- এরপর থেকে এই কথা আমার সামনে আর কখনো বলবে না। (রেগে গিয়ে চড় মেরে বলেছিলাম)
হয়তো সেটায় ওর উপর শেষ রাগ ছিল আবার ওর শেষ কান্নাটা দেখার ছিল
আসলে অর্পা আর নেই।এক সরক দূর্ঘনায় ও মারা যায়।প্রতিবারের এই বড়দিনে খুব খারাপ লাগে।
যখনি অর্পার কথা মনে
করেছি বারবার-
শুধু থেমে যায় গাড়ি
কবি আমি প্রেমিকহারা,
তবে মন খারাপের গাড়ি।
আর যখনেই মন খারাপের গাড়িতে চরি,
তখনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে চেঁচিয়ে বলি,
যেখানেই থাক,ভালো থেকো অর্পা তুমি আমারি।
আজ কাল্পনিক ভাবে আমার দিকে এগিয়ে আসবে নাম তার অর্পা।আজ অর্পাকে খুব সুন্দর লাগবেপড়নে সাদা শাড়ি, কপালে লাল টিপ আর থাকবে না, হাতে সেই অদ্ভুত ধরনের চুড়ি আর বাজবে নাএক কথায় খুব সুন্দর লাগবে অন্য দিনের তুলনায় আর এসেই আমাকে বলছিলো...
-মেরি ক্রিসমাসডে দিবু


No comments:

Post a Comment