Showing posts with label জীবনের গল্প. Show all posts
Showing posts with label জীবনের গল্প. Show all posts

Saturday, 31 December 2016

সফিক আহমেদ

বন্ধুরা আজ আপনাদের কিংবদন্তি 'কথা সাহিত্যিক' হুমায়ুন আহমেদের বন্ধু সফিক আহমেদের কিছু কিছু কথা নিজের মতো করে বলার চেষ্টা করছি।গল্পটি পড়েছিলাম হুমায়ুন আহমেদ রচিত ''লীলাবর্তীর'' মৃত্যু উপন্যাসে।সপ্তম শতকের বিখ্যাত ভারতীয় গনিতঞ্জ শংকরাচার্যের একমাত্র মেয়ে ''লীলাবর্তী"।
বাবার সামর্থ্য ছিল না মেয়ের জন্য কিছু করার ।কিন্তু কথা দিয়ে গেয়েছিল এই বলে-"মাগো" তোমার জন্য কিছু করার সামর্থ্য নেই আমার,তবে পৃথিবীর মানুষ যেন তোমাকে মনে রাখে সেই ব্যবস্থা করে যাবো আমি।ঠিক তাই করেছিল লীলাবর্তীর বাবা তার নামে একখানা গনিতের বই লিখে।আজ তার মেয়ের নামে পাতায় পাতায় কিছু লেখার প্রচেষ্টায় ব্যকুল কবিগন।কেমন ছিল লীলাবর্তী ?সেই কল্পনায় করেন লেখনগন।হুমায়ুন আহমেদ তার কল্পনায় একদিন লীলাবর্তীকে স্বপ্নেও দেখেন।.........
.....................
বাদ দেন তার স্বপ্নের কথা ।কি জানি বলতে চাইছিলাম।ও হ্যাঁ-সফিক সাহেবের কথা।....হুম;
এই
সফিক সাহেব হলো লেখক হুমায়ুন আহমেদ সাহেবের কলেজ,ইউনিভার্সিটির খুব ভালো বন্ধু।অনেক দিন থেকে দেখা নাই।তবে লেখক হুমায়ুন সাহেবের কারো সাথে দেখা করার ইচ্ছাও ছিল না।দেখলেই সবাই বলতো কিরে বুড়ো তো হয়ে গেলি।
হা....হা।
তবে হুমায়ুন সাহেব মনে করতো যৌবন শরীরে নয়,মনে।তবু কার না চায় স্মার্ট হওয়ার।
একদা একদিন তিনি নাপিতের দোকান থেকে চুল কেটে বের হয়ে দেখলো চুলের গড়ায় সাদা দাগ।খুব বিশ্রী নাকি দেখাচ্ছে।মেজাজ তো খারাপ।তাই রাগে পান আর সিগারেট নিয়ে যেমনি দাঁড়ায়েছে তেমনি চেনা কিন্তু তবু অচেনা একজন ভদ্র লোককে দেখেতে পেল।সাথে একজন তরুনিও ছিল।ভদ্র লোকটি তাকে দেখেই চেচিয়ে বললো আরে তুই!!!!!!!!!
সে আর কেউ নয় তিনি হুমায়ুন সাহেবের বন্ধু সফিক সাহেব।মেয়েকে নিয়ে কোথায় জানি আসছিলো।যেমন ভাবা ঠিক তেমন কথা সফিক সাহেব তো বলেই ফেললো আগে: ছি! কি? বিশ্রী চুল কাটছিস তোকে একদম পকেটমারের মতো লাগছে। হা হা হা হা...... আজ আর তোকে ছাড়ছি না এই বলেই মেয়ে এক হাত আর সফিক সাহেব এক হাত ধরে তাকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে গেল।সফিক সাহেব তার স্ত্রীকে অবাক করে দিল।কারন তার স্ত্রী হুমায়ুন সাহেবের খুব ভালো ভক্ত।একটিও নাটক বাদ যায় না দেখার। স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে তাকে কাছে পেয়ে অনেক খুশি।কিন্তু বন্ধুর স্ত্রীকে দেখে তিনি খুব বিব্রত হলো।তার বুঝতে দেরী হলো না সেই হতভাগা নারী জীবন যুদ্ধে পরাজিত।ক্লান্তি ও হতাশা তাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলছে।
মনের দুঃখে সফিক সাহেবের স্ত্রী শোনালেন আজ তার সংসারের অবস্থা যেন ভাঙ্গা নৌকার মতো!!!!!!!
সফিক সাহেব ব্যাংকের ম্যানেজার।অনেক বেতন হলেও কখনো তার স্ত্রীকে খুব বেশি টাকা হাতে দেন নি।সামান্য কিছু টাকা আর নিজের শিক্ষকতার টাকা দিয়েই ছেলে মেয়ের পড়াশুনা চালিয়ে নিয়েছে আবার সংসারের বোঝা।কষ্টের কথা বলতে বলতে চোখে জল ফেলিয়ে বললো,যাবার সময় বন্ধুকে একটু বুঝিয়ে যাবেন ।হুমায়ুন সাহেব কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না।অনেক দিন পর দেখা কিন্তু তাকে চোখের জল দেখতে হলো।তিনি বিষ্মিত হয়ে বন্ধুকে বললো:
কিরে সফিক সমস্যাটা কোথায় তোর?আরেকদিন বলবে বলে এড়িয়ে যেতেই জোর বায়না ধরলেন তিনি ।অবশেষে বলেই ফেলেন সত্য ঘটনা।
সফিক সাহেবের তখন বিয়ে হয় নি।ঠিক তখন মাঝে মাঝে এক দুই বার বন্ধুদের সাথে মদ্যপান সিলিব্রেট ,বেতন পেলেই বন্ধুর হুকুমে হুইষ্কির বোতল।আসলে সফিক সাহেব প্রায় মাতাল হয়েই বাড়ি ফিরতো।তবে খুব বেশি দিন এই মাতাল ছিল না।অবশেষে তিনি ভালো কাজে মাতাল হয়ে পড়ছিলেন।একদিন মদ্যপান করে মাতাল হয়ে বাসায় ফিরছিল রাস্তায় দেখলো এক বাবা তার ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষে চাইছে ছেলের চিকিৎসার জন্য।
ছেলের হার্নিয়া!!!!এটা খুব খারাপ রোগ।সাত -আট বছরের ছেলে।নগ্ন অবস্থায় ভিক্ষা করে।না হয় তো কেউ অবিশ্বাস করে টাকাই দিবে না।এই দৃশ্য দেখেই মাতাল সফিক সাহেব একখানা ১০০ টাকার নোট বের করে দিল।এতে ছেলের বাবার মুখে মুচকি হাঁসি ফুটলো।তার আর বুঝতে দেরী হলো না যে, এই লোক ছেলের হয়তো চিকিৎসা করাবে না।ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষা করাই তার পেশা।হয়তো কোন দিনও ছেলেকে হাসপাতালেও নেন নি।নেশাগ্রস্থ মাতাল যা ভাবে তাই করে,তিনি ছেলেকে সাথে সাথেই হাসপাতালে নিয়ে গেলেন।তার এক বন্ধু বড় ডাক্তার।সব কিছু খুলে বললেন।সব টাকাও সফিক সাহেব দিলেন।অপারেশন ডেট ঠিক হলো।অপারেশন হলো ।
কিন্তু এক ঘন্টা পর ছেলেটা মারা গেল।
হায়! হায় ! এ কী? সর্বনাশ!!!! ।
তার জন্য আজ ছেলেটা মারা গেল।ছেলের বাবা এখন কাকে নিয়ে বাঁচবে।তিনি ভয়ে আর লজ্জায় ছেলের বাবার সাথে দেখা না করেই বের হয়ে গেল হাসপাতাল থেকে।তিনি প্রতিঞ্জা করলেন আর পরোপকার করবেন না।যথেষ্ট শিক্ষা পেয়েছেন তিনি।সেদিন সারারাত তার ঘুম হলো না।
কেন ছেলেটা মারা গেল ?
কেন ? কেন???????........
সেই দিন থেকেই তার সমস্যা শুরু।তিনি ঠিক করলেন যখন যেখানে অসুস্হ ছেলেপেলে দেখবেন ,চিকিৎসা করাবেন।তিনি মাতাল হয়ে গেলেন।তিনি দেখতে চান এরা বাঁচে না মরে।সেই থেকেই শুরু রাস্তার
অসুখ বিসুখ কাতর কাউকে দেখলেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।টাকা পয়সা এতেই চলে যাইত তার।
তারপর করলেন আবার বিয়ে।বিয়ে যে কত মজা গো!!"যারা বিয়ে করছে তারাই ভালো বুঝেন এটা,,,বাদ দেন বিয়ের কথা,আগে বিয়ে করি তারপর বলবো নে!!!! হা হা।
ও তারপর তার একটা সংসার হলো।অন্য সব নেশা ছাড়তে পারলেও মানুষকে সাহায্য করা অভ্যাস আর গেল না।জীবনে অনেক রোগী সুস্থ করছেন তার বেতনের টকা দিয়ে।তাই তার স্ত্রীকে কখনো সম্পূর্ন টাকা দিতে পারেন নি তিনি।
তখন হুমায়ুন আহমেদ সাহেব বললো:- এখনো কি কারো চিকিৎসা চলছে??
উওরে সফিক সাহেব বলে, হ্যাঁ ---এখনো একজনের চিকিৎসা চলছে।জয়দেবপুরের এক মেয়ের।ঠোট কাটা,প্লাষ্টিক সার্জারি করে ঠোট ঠিক করা হবে।
তিনি মুগ্ধ গলায় চোখে জল ভরিয়ে বললেন--- দোস্ত তুই যে কত বড় কাজ করছিস সেটা কি তুই জানিস??????
রুমটা অনেক ক্ষুন শান্ত ছিল।
সফিক সাহেব অনেকক্ষূন পর চোখের জল সামলে নিয়ে বললো বড় কাজ হোক কিংবা ছোট কাজ হোক তবে দোস্ত কোন রোগী যেদিন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে ,সেদিন আমার কত আনন্দ হয় তা শুধু আমিই জানি।এই আনন্দের কোন তুলনা নেই।প্রতিবারেই আমি আনন্দ সামলাতে না পেরে সবার সামনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠি।
ধন্য সেই স্ত্রী সফিক সাহেবের মতো একজন স্বামী পেয়ে।কথা গুলো শুনে তার স্ত্রীর চোখে ছলনার এক অপরুপ মায়া লেগে ছিল।আনন্দ না ধরে রাখতে পেরে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন।
আসলেই বন্ধুরা এই ক্ষমতা অল্প কিছু সৌভাগ্যবানের থাকে।সফিক সাহেব তাদের একজন।
স্যালুট সফিক স্যার।
প্রিয় পাঠক যারা আমার এই কষ্ট করে লেখাটা কষ্ট করে পড়লেন তাদের উদ্দেশ্যে একটা প্রশ্ন ?আমরা কি সৌভাগ্যবানের একজন হতে পারি না?? জানি সফিক স্যারের মতো হতে পারবো না কিন্তু যা পারি ?কি বন্ধুরা পারবো কি !
ধন্যবাদ।

Friday, 30 December 2016

ভালোবাসি শুধুই ভালোবাসি

-আমায় ভালোবাসো ?
-কখনো না।
-তুমি ভালোবাসো
,আর না বাসো
তবু আমি তোমাকেই
ভালোবাসি!
-Disgusting,i hate
you.....
বলেই ফোন কেটে দিল
মিতু।
huhahaha....,করে হাঁসার
সুযোগটাও দিল না আর
।কি ভাবছেন ?
i hate you বলা শর্তেও
হাঁসতে চাইলাম কেন ?
হুম ,আমি সব সময়
হাঁসি।এটা আমার নেশা
।আর মিতু এই রকমি
একটা মেয়ে।জানি না
কেন ?আমাদের
সম্পর্ক হয় ২০১৫
সালের প্রথম মাসের
তৃতীয় সপ্তাহে।তবে
সম্পর্কটা ফেসবুকেই।
কখনো দেখি নি
মিতুকে।ছবিতে
দেখছি শুধু ।ফোনে
অনেক অনেক কথা
বলতাম।তবে সব কথাই
আমি বলতাম মিতু
তেমন কোন কথাই
বলতো না ।মুখ বুজে শুধু
কথা গুলো শোনতো।আর
আমাকে ভালোবাসার
কথা বললেই
,শেষ! ,কোন কথা
ছাড়াই দিত ফোন
কেটে।আমার যতদূর
বিশ্বাস! মিতু
আমাকেও ভালোবাসে।
যদি ভালো নাও বাসে
তবু Happy আমি ,কারন
তাকে ভালোবাসার
সুযোগ তো পেয়েছি।আর
এটাই ছিল আমার
প্রত্যাশা।কত যে রাগ
করে ফোন কাটে,তার
কোন হিসাবই নেই।
গুরুত্ব না দিলেও তার
পিছু ছাড়ি নি।তার সব
অবহেলাই, ভালোবাসা
হিসাবেই দেখছিলাম।
একদিন ফোনে
-কেমন আছো ?মিতু ।
-ভালো ।
-হাহা ,।আমি কেমন
আছি ?বলবে না !
-সেটা তুমি জানো।
-হুম ।আমিও ভালো
আছি। তো কি কর ?
-কিছু না
-আমিও কিছু করি
না ।তবে খেলতে যাবো ।
-আমি শুনতে
চেয়েছি ?
-না ,তবু বললাম
আরকি
-ফালতু যত্তসব
-হাহাহা ,আচ্ছা Do u
love me ?মিতু
-ঠুস ,ঠুস ,
দিলো ফোন
কেটে ।এই ভাবেই
চলতো দুষ্টামি।দিনে
তিন থেকে চার বার।
মিতু আমাকে কোন
কথাই বলতো না তবু
নিজ থেকে জোর করে
শুনিয়ে দিতাম আমার
সারাদিনের কথা
গুলো,কি করি ,কি খাই
,কোথায় যাই ইত্যাদি
ইত্যাদি।বেছারি
ফোনও ধরতো ?চুপ করে
থাকলে হ্যালো বলে
উঠতো,হাহা-সত্যি
পাগলি ! ! ,কি জানে
আমাকেও পাগল ছাগল
ভাবতো নাকি ?
কয়েকদিন ফোন না
করলে ফোনও করতো ,
¤একদিন
-hello,
-হুম hello,মিতু
-হুম ,কোন খবর নাই
যে ?
-বলো , কেমন আছো ?
-ভালো
-হাহা ,আচ্ছা আজ
বলতে হবে তুমি
আমাকে ভালোবাসো ?
-জানি না
-but,আমি যে
তোমাকে ভালোবাসি ।
-এটা তুমি জানো ।
-কিন্তু কেন ?
- ? ? ? ? ?
শুনেই দিল ফোন কেটে।
আসলে তাকে
ভালোবাসার কথা
বললেই এই রকমেই
করতো।তাছাড়া
অনেক কথা শুনতো
আমার।
৫ ই মার্চ--
মনটা খুব খারাপ ছিল।
এতোবার ফোন করি
তবু কেন বলে না" কাকে
মিতু ভালোবাসে । রাতে
খুব কষ্টে ঘুম গেছি!
কিন্তু মধ্য রাতে ঘুম
ভেঙ্গে উঠে দেখি
মোবাইলে unknown
নাম্বারে একটা
মেসেজ।
মেসেজটা পড়লাম-----¤
"ভাইয়া আমি,"আলোর
পথে" প্রতিবন্ধী
হোষ্টেল থেকে
লিখছি।ভাইয়া আমি
জানি আপনি মিতু
আপুকে অনেক
ভালোবাসেন।মিতু
আপুও আপনাকে
ভালোবাসে ।কিন্তু
আপনি হয়তো এটা
জানেন না মিতু আপু পা
প্রতিবন্ধী।তাই আপু
চান না আপনার সুন্দর
জীবন তার সাথে
কাটুক।জানেন ,আমরা
প্রতিবন্ধীরা কিছু
বলতেও পারি না
,সইতেও পারি না।তবে
ভাইয়া অপেক্ষা করতে
পারেন ,মিতু আপুর পা
অপারেশন না হওয়া
পযর্ন্ত।আমি যে কথা
গুলি আপনাকে বললাম
আপু যেন কোন মতেই
জানতে না পারে ।
আচ্ছা ,ভালো
থাকবেন।"
SMSটা পড়ে আর ঘুমাতে
পারলাম না।শুধু একটাই
কথা ভাবছিলাম,এখন
কিভাবে মিতুকে
বুঝাবো ,সবকিছুর
পরও তবু
তোমাকেই ভালোবাসি।
ভালোবাসা যে, কিছু
মানে না।কথা গুলি
ফোনে বলবো বলবো
ভাবতেই ,ফোন বেজে
উঠল ।
.ক্রিং.!..ক্রিং.!.ক্রিং.!
ফোনটা মিতুর ছিল !যে
কথা গুলো বলবো বলবো
ভাবছি সব কথা
গুছিয়ে নিয়ে...........
-হ্যালো ,Good
morning !মিতু
-হুম ।good morning 2
'শোন -তুমি আর কোন
দিন ফোন দিবে না
আমাক ।
-But Why ??
-জানি না ।তবে এবার
ফোন দিলে বুঝে নিবো
তুমি আমায়
ভালোবাসো না ,plz ,plz
,plz -'দিবু'আর কোন
দিন ফোন দিও না।জানি
কথাটা রাখবে ,ভালো
থেকো ,Bye....
-
বলেই ফোন
রেখে দিল,মুখ দিয়ে
কোন কথায় বের
হচ্ছিল না তখন।
সবকিছু তখন স্বপ্ন
স্বপ্ন মনে হচ্ছিল।
যখন উপলদ্ধি করতে
পারলাম এটা স্বপ্ন নয়
তখন ছল ছলিয়ে
চোখের জলে বুঝাতে
চাইছিলাম,মিতু আমি
সবকিছুর পরও
তোমাকেই ভালোবাসি।
কিন্তু আমার কান্না
দেখে কে ?অতিরিক্ত
আঘাতে যেন নিশ্চুপ হয়ে
থাকি এখন।ভালোবাসি
শুধুই ভালোবাসি তবে
কেন ফোন দিলেই 'না
ভালোবাসার' কথা
বললে তুমি ।
ফোন করতে নিষেধ
করেছ,তাই করিনি
আজও .খুব বেশিদিন
হয়নি তবু মনে হচ্ছে
যেন বহু বছর কেটে
গেছে,তোমার সঙ্গে
কথা বলতে পারি না।
প্রথম দু-এক দিন
নিজেকে সামলে
নিয়েছিলাম ।কিন্তু
আজকাল আর মনের
সঙ্গে যুদ্ধ না করে
নিজেকে সামলাতে খুব
কঠিন হয়ে গেছে ।
সামনে পরিক্ষা
আমার,কিন্তু
পরিক্ষাকে পরিক্ষা
মনেই হচ্ছে না ।
তোমার সঙ্গে কথা না
বলে আর যে থাকতে
পারছি না ,ডার্লিং ।সব
সময় মোবাইলের
স্কিনের দিকে
তাকিয়ে থাকি ।এই
বুঝি তুমি এখনই ফোন
করবে ।বলবে ,হ্যালো
'দিবু'...কই তুমি ?,
মোবাইলে কোন মেসেজ
এলেও মনে হয় ,সেটা
তুমিই পাঠিয়েছো
,কিন্তু এসে দেখি
ঘোড়ার ডিম,সব GP
থেকে আসা মেসেজ ।
কিন্তু সব সময়
নিরাশার তির আমার
বুকে এসে লাগে।যখন
রাগ করে ফোন কেটে
দিতে তখন তোমাকে
দেখার খুব ইচ্ছা
করতো ।জানতে ইচ্ছা
করতো তুমি ক্যামনে
রাগ করো ?নিজেকে
অন্য এক পৃথিবীতে
খুঁজে পেতাম আমি ।
যেখানে সবকিছু ভুলে
কেবল তোমাকে নিয়ে
মগ্ন থাকতে ইচ্ছা
করে।জানি না তোমার
পায়ের অপারেশনটা
হয়েছে কি না ।
মাঝেমধ্য খুব দুশ্চিতা
হয় ।তোমার নিষিধের
কারনে ফোন করে
খোঁজখবরও নিতে
পারছি না ।তাই কথা
গুলা #Loue_U পেজে
পোষ্ট করে দিলাম ।
যদি তোমার কাছে
পৌঁছায় ,Plz তাহলে
একবার ফোন তো করো
,ফোন করলে একটাই
কথা বলবো শুধু i love
you 'মিতু ,হয়তো
আমার মতো কেউ
ভালোবাসবে না তোমায়
।....একবার ফোন তো
করো_Plz -
Note:ভালো লাগলে
share করুন !
ধন্যবাদ ।

লেখাঃদিবাকর দেব শর্মা(দিবা)

তারিখঃ১৩/৬/১৬

নীরব ভালোবাসা

আমি দিবু ।কেউ আমাকে ভালোবাসে কিনা তা জানিনা ।তবে আমি ৮ম শ্রেনী থেকেই একটি মেয়েকে খুব ভালোবাসি।
নাম তার মুক্তি ।মুক্তি আমার কাছে আমার জীবনের থেকেও বেশি মূল্যবান।তাকে যেমন ভালোবাসি ঠিক তেমনি সম্মানও করি ।কখনো তাকে কুনজরে দেখি নি,এখনো দেখি না । আমার আর মুক্তির পাশাপাশি গ্রাম ।ছোট থেকেই এক স্কুলে পড়াশুনা ।খুব ভালো বন্ধু আমার ।
তিন রাস্তার মোর ,উওরে য়াওয়ার পথটায় আমি আর পূর্ব দিকটায় মুক্তি ,আর স্কুল যেতে হয় দক্ষিনে ।একদিন হঠাত্‍ মুক্তিকে দেখতে পাই ঔ সেই তিন রাস্তার মোরে ।মুক্তি তাঁর সাইকেল থামিয়ে !কি যেন করছে ?
(বিঃদ্রঃআগেই বলে নিচ্ছি দিনাজপুরের মেয়েরা সাইকেলে করে স্কুল,কলেজে যায়)
আমি তখন ৮ম শ্রেনীতে ।মুক্তিও আমার সাথেই পড়ে ।ওকে চিনতাম ।তবে কথা বলতাম না।আজ দেখছি মুক্তির ভিষন বিপদ,তাঁর সাইকেলের চেইন ছিড়ে পিছনের চাকায় প্যাঁচ ধরেছে ।রাস্তায় একা,কেউ থাকলে না হয় আসবে ।ভাগ্যিস আমি পরে গেলাম তার চোঁখে ।না ডাকলে হয়তো যেতামি না ,কারন হলো আমি মেয়েদের সাথে কথা বলতাম না ।মুক্তি বলে উঠলো দিবু আয় তো একটু ,আমি থামলাম ,গিয়ে দেখি এই অবস্থা ।মুক্তি আমার দিকে চেয়ে আছে ,হয়তো ভাবছে আমি তার জন্য কিছু করবো কিনা ।মুক্তির মুখটা টকটকে লাল হয়ে গেছে আর ঘনঘন চোখের পাতায় চোখের জলকে আগলে ধরছে ।খুব ভালো লাগছিলো তখন মুক্তিকে।আমি তাঁর দিকে তাকাতেই চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলো বারবার।কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না ,অবশেষ আমার সাইকেল নিয়ে যেতে বললাম স্কুলে ।হুম বেচারি রাজি।চলেও গেল ।আর আমি হাটতে হাটতে এক মামার দোকানে ,ঠিকঠাক করে তারাতারি স্কুলে চলে আসলাম।আমার আসা দেখে বারবার আমার দিকে দেখছে মুক্তি।একটা ক্লাস শেষে আমার কাছে এসে ধন্যবাদ দিয়ে আমার চাবি দিয়ে ওর চাবিটা নিয়ে গেল ।
সেদিন থেকেই মুক্তি আমার সাথে প্রতিদিন কথা বলতো ।কিছু খেলে আমাকে ডেকে খেতে দিত ।একসাথে সেই তিন রাস্তার মোর পর্যন্ত আসতাম ,শুধু তাই নয় স্কুলে যাওয়ার সময়ও তিন রাস্তার মোরে দু'জন দু'জনের জন্য অপেক্ষা করতাম ।অনেক অনেক গল্পে মেতে থাকতাম দুইজনে ।স্কুলে পাশাপাশি বসতাম ,অনেক ঝগড়া করতাম,আমি বই দেখে লিখলে স্যারকে বলে দিত।কিন্তু অন্য কারো কথা বলতো না।তখন খুব হিংসা হতো আমার ।স্যার যখন কান ধরে দাঁড়িয়ে রাখতো তখন মুক্তি আমাকে দেখে বলতো
ও !
ও !
কেমন ?
..প্রতিদিন সে একই কাজ করতো ,,তবু আমি মুক্তির সাথে কথা বলা বাদ দেয় নি ।অনেক রাগ অভিমানে কেটে গেল দুইটি বছর ।দশম শ্রেনীতে আমরা তখন।আমি কোন দিন স্কুলে না আসলে পরের দিন বারবার বলতো ,কাল ক্যান আসিস নি ?আরো ওর অনেক প্রশ্ন ।সত্যি বলতে যেদিন মুক্তিও স্কুলে যেত না তখন আমারও মন খুব খারাপ লাগতো ,তখন মনমরা হয়ে স্কুল পালিয়ে আসতাম বাড়িতে।।কিন্তু মুক্তি এই বছর একটু কম কম স্কুলে আসতো।স্কুলে ক্যান আসতো না এটা বলতে পারি না।দশম শ্রেনীতে ওঠে আগের থেকেও বেশি কথা হতো তবে ফোনে ।।এখন মুক্তি অনেক কম স্কুলে আসছিল ।যতটুকু মনে হয় তাতেই বুঝি সে আমার বড় শুভাকাঙ্কী ।আমার মন বলছে আমি তাকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছি ।কিন্তু সে ভালোবাসে কি না, সেটা জানার সুযোগ হয়নি এখনো । সমস্যা হলো আমি তাকে প্রতিনিয়ত অনুভব করি ।তার সঙ্গে কাটানো সময় আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত ।কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলার সময় গুছিয়ে ভালো লাগার কিংবা মনের কথা বলতে পারি না ।ভেবেছিলাম SSC পাশ করে তাকে love you বলবো।যদি না বলতে পারি তবে এইভাবেই নীরবে ভালোবেসে যাব । SSC গেল ,HSC যাচ্ছে তবু i love you বলা হয়ে উঠলো না আজও।আমি এখন কাপ্তাই,আর মুক্তি ঠাকুরগাঁও ।অনেক গল্প হলেও বলা হয়নি আমার মনের কথা গুলি এখনো । কিন্তু মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে আর পেরে উঠতে পারছি না ।এখন অনেক ভয় হয় যদি তাকে প্রপোজ করার পর প্রত্যাখান করে ! তখন কি হবে আমার ??যেমন আছি ঠিক তেমনি থাকি ,তাকে আমি হারাতেও চাই না ।এভাবেই দূর থেকে ভালোবাসবো ।তবে এই দিবু একদিন মুক্তিকে প্রশ্ন করবে , নীরব ভালোবাসা কী ?? দেখি সেই নীরব ভালোবাসার পাখা আকাশে উড়ে কি না ।



লেখাঃদিবাকর দেব(Diba)
Date: 12/05/16

Saturday, 24 December 2016

নির্বাক প্রেমিক দিবু


আজকে বড়দিন।আজকের এই দিনে ঘটে যাওয়া ২০০৯ সালের ঘটনা বলছি।২৫-ই ডিসেম্বর ২০০৯ সাল সকাল নয়টা কি দশটা বাজে তখন।আমার খুব ভালো বান্দবী আমার দিকে এগিয়ে আসছে নাম তার অর্পা।আজ অর্পাকে খুব সুন্দর লাগছিলো।পড়নে নীল শাড়ি, কপালে লাল টিপ, হাতে সেই অদ্ভুত ধরনের চুড়ি।এক কথায় খুব সুন্দর।এসেই আমাকে বলছিলো...
-মেরি ক্রিসমাসডে দিবু।জানিস তোকেই প্রথম বললাম।
-মেরি ক্রিসমাসডে তোকেও।
আচ্ছা আমার পরিচয় টা আগে দিয়ে নি-আসলে নিজের ব্যাপারে বলতে আমার কিছুই নেই এখন।
আমি দিবু।জঙ্গলে মঙ্গলে থাকি!কাপ্তাই চিনেন হুম ঠিক ধরেছেন আমি রাঙ্গামাটি থাকি।মোটামুটি  ভালো একটা ডিপার্টমেন্টে ডিপ্লোমা করতেছি।আর যে নীল শাড়ি, লাল টিপ,চুড়ি পড়া মেয়েটার কথা বললাম ও আর কেউ নয় এক কথায় বলতে পারেন আমার শুভাকাঙ্খী।সেই ছোট থেকেই একই মিশন স্কুলে পড়তাম।সেই এক বিশাল মজা।চলতে-চলতে,খেলতে খেলতে কখন যে অর্পাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম তা নিজেও জানি না।না জানাই স্বাভাবিক,ভালোবাসা তো আর বলে আসে না।অর্পার চুল আর চোখ যে কেউ দেখলে সহজে ভুলতে পরবে না।তাই তো ওর সাথে অনিয়ম করেই বসতাম,থাকতো প্রতিদিন তার চুল এলোমেলো করার কাজ,থাকতো কে কার দিকে বেশি তাকিয়ে থাকতে পারি।চোখে জল এনেই সমাপ্তি ঘটত আমাদের দেখাদেখির।দৈর্ঘ্য পাঁচটি বছর কেটেছে আমাদের বন্ধু হিসাবে ২০০৪-২০০৯ পর্যন্ত।২০০৯ থেকেই  শুরু হয় আমাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায়।তো চলুন কিভাবে শুরু করলাম আমাদের সেই নতুন পথচলা।

কোথায় জানি আটকে ছিলাম,ও হ্যাঁ -মেরি ক্রিসমাসডে বলা শেষ হলোঃ
সকাল বেলা এমনি মজা করতে করতে কেটে গেল।
তো বিকালের দিকে.....

-আচ্ছা অর্পা তুই কি ফ্রী আছিস?
- হ্যাঁ কিন্তু কেন
- তোকে কিছু বলার ছিল রে।
- আমারো তো কিছু বলার আছে।আচ্ছা আগে তুই বল।
- ধ্যাত!এখানে না।
- তাহলে?
- ওদিকে চল একটু।(হাটতে হাটতে এক পুকুর পারে গিয়ে বসলাম।দিনের বেলা গড়িয়ে তখন রাত গড়িয়ে আসার সময়।অবশ্য যে কথা বলতে এসেছি তা বলতে কোন ভয় ছিল না,তবে সারা মুখে লজ্জার লুকোচুরি খেলছিল।পুকুরপার তখন কত নির্জন, কত শান্ত ছিল তা বুঝাতে পারবো না আপনাদের।হয়তো কথা শুনার জন্য সম্পূর্ন প্রকৃতি ছিল শান্ত।আকাশের মেঘগুলো অনেকটা অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছিলো।)
- এবার বল কি বলবি।
- আমি তোকে ভালোবাসি।
(চোঁখ বন্ধ করে বলেছিলাম)
- তোর সাহসতো কম না। (রেগে গিয়ে)
- সরি সরি এমনি বললাম তো।(সাথে সাথেই লজ্জার লুকোচুরি খেলা মুখটা লাল হয়ে গেছিলো আমার)
- ঔ গাঁধা সরি বললি ক্যান আবার।এই কথাটা বলতে এতোদিন লাগে তোর?আশায় ছিলাম কবে ভালোবাসবি।সত্যি আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি ।
- তাহলে রাগ করলি ক্যান? (আমিও রেগে গিয়ে)
- আগে বল-এই কথা বলতে এত্তদিন লাগলো কেন?
- হায়! হায়! রাত হয়ে এলো তো-চলো চলো
- উওর কই।কাল সকাল সকাল আসবি কিন্তু.হু..লাভ ইউ দিবু।
দিন যায় মাস যায়,কত্ত সকাল-সন্ধ্যা চলে যায়।তবু এই ভালোবাসার পাগলামি আর ফুরায় না।

অনেক অনেক গল্প
মাঝে মাঝে অভিমান
রাগও হতো অল্প
হালকা হালকা আঘাতে
কান্না আসার ভাব।
একটু শাসন,আবার হাঁসি।
বন্ধুরা
এমন হলে বুঝে নিও
এটাই সত্যিকারের লাভ।অর্পা ছিল আমার প্রান,আমি ওর কাছে ছিলাম অর্পার প্রানের থেকেও মূল্যবান।এটা শুধু আমার ধারনা,অর্পার কি ভাবতো জানি না--একদিন- ভুলে বলেছিলাম আচ্ছা অর্পা আমি যদি মরে যাই!!বলা শেষ হতেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে কান্না,আর কি জানি বকবক করে আমাক বলছে।এত্তো বেশি করে কাঁদল যে কাঁদতে কাঁদতে বন্যা বয়ে দিল।আর আমার গেঞ্জিটাতে চোখের পানি, নাকের পানি দিয়ে আরো মাখিয়ে ফেলল, অলরেডি তো অর্ধেক মাখিয়েই ফেলেছিলো।
- খুব খারাপ।খুব, খুবিই খারাপ হচ্ছে কিন্তু দিবু।(চোখ মুছতে মুছতে)।
আমি তাকে দেখে থাকতে পারি নি-সাথে সাথেই কাছেই টেনে নিয়েছিলাম বুকে। সত্যিই  আমিও অর্পাকে অনেক ভালোবাসি।খুব খুব খুব ভালোবেসে ফেলেছি।৩ বছর পরেও খুব ভলোই যাচ্ছিলো আমাদের দিন গুলি...ছিল না কোন ঝগড়া- না ছিল অভিমান,শুধু একটা ভুলে আজ আমি একা।আজ আমার অর্পা আর আমার কাছে আসে না।কোন গানের সুর আর ভার লাগে না,কেউ আর বুকে এসে কাঁদে না।নির্বাক প্রেমিক দিবু আজ শুধুই একা ভবঘুরে হয়ে কেঁদে কেঁদে করে শুধু অর্পা অর্পা।রাত অনেক হলে আর কিছু ভালো লাগে না।আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি ছাদে অর্পার অপেক্ষায়।ঘর সব জিনিস গুলোতেই কেন জানি শুধু ওরি ছায়া খুজে পাচ্ছি। কেন জানি শুধু ওর মুখটা চোঁখের সামনে ভাসছে।বিছানাতে শুয়েও ভালো লাগছে না।যদিও নিজে থেকে ছাড়িয়ে নিতাম।শুয়ে শুয়ে এপাশ ওপাশ করি আজো।কিছুতেই ঘুম আসে না। কোনভাবেই কেটে গেল একটি বছর।আবার শুরু কাল্পনিক অর্পাকে নিয়ে এক নতুন অধ্যায়---
এক ছুটিতে দুঃখ ভরা মন নিয়ে বন্ধুর কলেজে দিনাজপুর গেছিলাম ঘুরতে।প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল সেদিন। আমি আর মাসুম।এক দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম।মিষ্টি মেশানো দুধ চা।এই বন্ধু হচ্ছে আমার আবার এক বান্ধবীর তমুল প্রেমে মেতে থাকা হবু প্রেমিক।ছোট থেকে একি স্কুলে, একি কোচিং এ, এখন ভিন্ন কলেজে পড়ি।কোচিং-এ এক্সাম শীট কপি করার বিরাট প্রতিভা আছে আমাদের।আমি ওর সব সুখের কথা জানলেও মাসুম জানে না আমার দুঃখের কথা।আজ বলবো নাকি বলবো না এটাই চিন্তা করছিলাম।কিন্তু চিন্তার অবসান ঘটিয়ে সামনে একজনকে দেখলাম।পড়নে লাল রঙের থ্রী-পিছ, এক পায়ে পায়েল পড়া, কেমন অদ্ভুত ধরনের চুড়ি।এ কি দেখছি আমি,চোখ আমার তার চুলে,কখনো বা তার চোখে ।র্নিবাক প্রেমিক আমি।চোখে ভুল দেখছি নাতো।মনে পড়ে গেল পুরোনো সেই দিনের কথা।বৃষ্টি থেমে গেল,আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করলো,লোকের চলাচল বাড়তেই থাকলো।কিন্তু আমার মনের ব্যাকুলতা অর্পার সাথে কাটানো অতীত মন থেকে ছিটকে পড়া পানির ফোটাগুলোর মতো অঝোরে ঝরতে লাগলো।চোখের পাতা না ফেলতেই মাসুম বুঝে উঠে বলে উঠলো--
- ঔ হারামি কি দেখিস?
- না। কিছু না।( (উদাস ভাবে বললা
- আবার মিথ্যা বলিস।
- না দোস্ত ঔ মেয়েটাকে দেখছিলাম।
(সাথে সাথে মাসুম পেছন ফিরে ডাকলো ঔ মেয়েটাকে)
- আরে এ তো সাথী? ওতো আমার বান্ধবী রে।আমার ডিপার্টমেন্টেই পড়ে।
- কি কস ?সত্যি
- হুম।ক্যান এর আগে দেখোস নাই বুঝি।
- না।আচ্ছা আর কি কি জানিস ওর ব্যাপারে।
- টেনশন নিস না। আমি সব দেখছি। চল আমার সাথে।
- কোথায়?
- আরে চল না।
(হারামি করে কি। আমাকে একবারে ও যেখানে বসে কফি খাচ্ছিলো ওখানেই নিয়ে গেল)
- কিরে সাথী কি করিস ?
- কফি খাই। খাবি?
- আগে পরিচয় --এটা আমার দোস্ত ওর নাম দিবু।
- হাই আমি সাথী।
- হ্যালো আ-আমি দিবু।
- কেমন আছেন?
- এইতো চলছে। আপনি?
- ভালো।
বৃষ্টি শুরু হলো।তাই অনেকক্ষন কথা হয়েছিল সেদিন।আস্তে আস্তে ভালো বন্ধুতে রূপ নিল। কেয়ারিং, সেয়ারিং সব কিছুই।সাথীর সাথে কথা বলে আমার হারিয়ে যাওয়ার দিনগুলি ফেরে পেতাম।শুধু তাই নয় অর্পার সাথে সাথীর অনেক মিল খুঁজে পেতাম আমি।চুল আর চোখ দেখলেই আমার আর খারাপ লাগতো না।তাই তো সাথীর সাথেই কথা বলে কাটিয়ে দিতাম।সাথী কিছুটা হলেও আমার দুঃখের কারন জানতো।তাই তো কোন দিন খারাপ থাকতে দেয় নি।কয়েকটা বছর চলে গেল এইভাবেই।কিন্তু আর কতদিন।সাথী অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসে।ও একদিন চলে যাবে তখন কি হবে আমার।।ভাবতে ভাবতে চোখে জল চলে আসলো।কিছুদিন আগের কথা..বিকালে একদিন
-আচ্ছা সাথী তোর বিয়ে হওয়ার পরও কি আমাকে কিছুটা ভালো রাখতে পারবি।শুধু কথা বললেই হবে।
-হুম।পারবো
-সত্যি তো !!
-সত্যি-সত্যি।কিন্তু একটা শর্তে
-কি
-আজ বলতে হবে অর্পার তারপর কি হলোঃআজ কিন্তু বলতেই হবে!
-শুনবি তাহলে,ওকে শুন...................
ভালোভাবেই চলছিল আমাদের সম্পর্কটা।বেশি কিছু মনে নাই তবে এথনো মনে আছে সম্পর্কের প্রায় ১ বছর পর
একদিন পাশাপাশি বসে আছি অর্পার সাথে।হঠাৎ অর্পা বললো........


-দিবু একটা কথা বলি?
- হুম বলো।
- আচ্ছা আমি যদি মরে যাই তাহলে তুমি কি করবে?
- এরপর থেকে এই কথা আমার সামনে আর কখনো বলবে না। (রেগে গিয়ে চড় মেরে বলেছিলাম)
হয়তো সেটায় ওর উপর শেষ রাগ ছিল আবার ওর শেষ কান্নাটা দেখার ছিল।
আসলে অর্পা আর নেই।এক সরক দূর্ঘনায় ও মারা যায়।প্রতিবারের এই বড়দিনে খুব খারাপ লাগে।
যখনি অর্পার কথা মনে
করেছি বারবার-
শুধু থেমে যায় গাড়ি।
কবি আমি প্রেমিকহারা,
তবে মন খারাপের গাড়ি।
আর যখনেই মন খারাপের গাড়িতে চরি,
তখনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে চেঁচিয়ে বলি,
যেখানেই থাক,ভালো থেকো অর্পা তুমি আমারি।
আজ কাল্পনিক ভাবে আমার দিকে এগিয়ে আসবে নাম তার অর্পা।আজ অর্পাকে খুব সুন্দর লাগবে।পড়নে সাদা শাড়ি, কপালে লাল টিপ আর থাকবে না, হাতে সেই অদ্ভুত ধরনের চুড়ি আর বাজবে না।এক কথায় খুব সুন্দর লাগবে অন্য দিনের তুলনায় আর এসেই আমাকে বলছিলো...
-মেরি ক্রিসমাসডে দিবু